১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

হিমুর সাথে একদিন



পনি কি হিমু? হুমায়ুন আহমেদের হিমু?
—না। আমি হিমালয় ওরফে হিমু। হুমায়ুন আহমেদ আমাকে নিয়ে লিখতেন। এখন আর লেখেন না। ভদ্রলোক আর বেঁচে নেই। আমারও আর হাঁটা হয় না। বনে যেয়ে চাঁদও দেখা হয় না।
—আপনাকে কি আমি ভাই বলে ডাকবো? হিমু ভাই? ইচ্ছা হচ্ছে ডাকার।
—ইচ্ছা মনে পুষে রাখতে নেই। ইচ্ছা পুষে রাখলে এক সময় সেটা নেতিয়ে যায়। আর সেই নেতানো ইচ্ছা মনকে খামখা বিষন্ন করে তোলে। যতবার ইচ্ছা ভাই বলে ডাকো। চাইলে কাকা কিংবা মামাও বলতে পারো।
—Thanks হিমু ভাই। আমি জানতাম আপনি না করবেন না। আপনার সাথে আজ হাঁটি? হাঁটবেন তো?
—তুমি কি হিমু হতে চাও? তোমার হলুদ পাঞ্জাবী কোথায়? পায়ে তো জুতাও আছে দেখছি।
— আমার যে হলুদ পাঞ্জাবী নেই হিমু ভাই।
— তাহলে তো তুমি হিমু হতে পারবে না। হিমু ধর্ম অনেক কঠিন। হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে রাস্তায় রাস্তায় হাঁটতে হবে। রাতে চাঁদ দেখতে হবে। মাঝে মাঝে পুলিশ/সন্ত্রাসীদের সাথে ঠাট্টাও করতে হবে। আরও অনেক কিছু আছে। পারবে?
— হিমু ভাই, আপনি আপনিই। আপনার জায়গা কেউ দখল করতে পারবে না। আমার হিমু হওয়ার শখ, নেই তবে মহাপুরুষ হতে চাই। আপনি কি মহাপুরুষ,, হিমু ভাই?
— সেটা বলা মুশকিল। কখনও ভাবি নি। তুমি আজ মনে করিয়ে দিলে আজ থেকে ভাবতে হবে। আমি আসলে কি? এখন অবসর পেলে ময়ুরাক্ষীর পাশাপাশি এটাও ভাব্বো।
পান খাবে?                 ණ รเทนร 
— দিন। আপনি বলছেন,না করব না। আচ্ছা হিমু ভাই,মানুষের মনকে কব্জা করার কৌশল আপনি কোথায় শিখলেন?
— খুব সোজা। তুমিও পারবে। প্রত্যেক মানুষেরই অবচেতন মন বলে একটা জিনিস থাকে। সেই জিনিসটা যারা জাগিয়ে তুলতে পারে, মানুষ তাদেরকেই মনে রাখে বেশি। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন কিছু ঘটনা থাকে যার মেয়াদ সাময়িক কিন্তু স্মৃতি থেকে যায় চিরকাল। এমন কোন কাজ করার চেষ্টা করবে যা আগে কেউ ভাবেনি বা করেনি।
— হিমু ভাই, আপনি নাকি মানুষের সম্পর্কে এবং তার আগাম ভবিষ্যত্‍ সম্পর্কে বলে দিতে পারেন? এটা কিভাবে? শেখাবেন হিমু ভাই? এর বিনিময়ে আপনি যা বলবেন আমি তাই করব।
— তুমি খুব কিউরিয়াস মাইন্ডেড। এই জিনিসটা ভালো। পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে গেলে অনেক কিছুর উত্তরের প্রয়োজন আর উত্তর যেখানে থাকবে প্রশ্নও সেখানে থাকবে। তোমার প্রশ্নের একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি আমি-
মানব চরিত্রের একটা মজাদার দিক হলো বিভ্রান্ত হওয়া। মানুষ বিভ্রান্ত হতে ভালোবাসে। আর সেই কারনেই সাড়া জীবন মানুষ এমন কিছু বিভ্রান্তির পিছু ছুটে বেড়ায় যা সে পেতে চায় কিন্তু পায় না। মানুষের এসব দূর্বল দিক গুলোকে পয়েন্ট করে একজন মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেয়া খুব একটা কঠিন কাজ না। আনন্দেরও বলা চলে। তুমি যদি কাউকে একবার বিভ্রান্ত করেই দিতে পারো তাহলে সে নিজেই নিজের এমন অনেক তথ্য প্রকাশ করে দিবে যা তুমি জানতে না। সবই পরিস্থিতি, আর পর্যবেক্ষণ করার মত দৃষ্টি শক্তিও থাকা চাই। জনাব
মিসির আলী থাকলে হয়তো আরো ভালো যুক্তি দিয়ে তোমাকে ব্যাপারটা বোঝাতে পারতেন।
— আচ্ছা হিমু ভাই, এই হলুদ পাঞ্জাবীর বিশষ্যত্বটা কি?
— এর আলাদা কোন বিশষ্যত্ব নেই, তবে কিছু উপকারি দিক আছে বলতে পারো। এটাকে একটা মোহাচ্ছন্নতাও বলা যায়। মানুষ যেমন তাবীজ ব্যাবহার করে ঠিক সেরকমই হিমুদের হলুদ পাঞ্জাবীও কাজ করে। হলুদ পাঞ্জাবী পড়লে হিমু বিশ্বাসটা মনে ভালো করে জেগে ওঠে। রাত বিরেতে কেউ যদি দেখে যে একটা ছেলে হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে হাটছে, তো ব্যাপারটা দেখতে অদ্ভুতই লাগবে। তাই নয় কি? ও তোমার নামটা যেন কি?
— বাবা-মা  নাম দিয়েছিলেন শ্রাবণ। নামটা কেমন যেন রোমান্টিক রোমান্টিক। আমার পছন্দ না। মহাপুরুষদের এরকম নাম থাকতে নেই। তাই নিজের নাম নিজেই দিয়েছি। খসরু। আমাকে খসরু বলে ডাকবেন, হিমু ভাই।
— ওকে খসরু। তুমি কি মহাপুরুষ হতে চাও?
— জ্বী হিমু ভাই। তাইতো আপনার কাছ থেকে কিছু ব্যাপার ক্লিয়ার করে নিচ্ছি।
আচ্ছা হিমু ভাই, আপনি যে খালি পায়ে হেঁটে বেড়ান সারাদিন, আপনার পায়ে ময়লা লাগে না? এই যেমন ধরুন ককুরের পায়খানা কিংবা রাস্তায় পড়ে থাকা কারো বমি?
মহাপুরুষ হতে গেলে কি খালি পায়ে হাঁটা একান্তই জরুরী?
— হিমুদের খালি পায়ে হাঁটা আবশ্যক। তবে জুতা পড়তে নিষেধ নেই। আর ময়লা তো ভরবেই। কতবার যে কুকুরের পায়খানা পাঁয়ে লাগিয়ে মাজেদা খালার বাসায় উঠেছি তার হিসাব নেই। মানুষের দৃষ্টি থাকে বড় বিষয় গুলোর প্রতি এসব ছোট খাটো ব্যাপার কয়জনেই বা খেয়াল করে? মাজেদা খালাও খেয়াল করেন নি হয়তো। তাছাড়া এটাতো কুকুরগুলো মৌলিক অধিকার। এখানে আমি কুকুরের দোষ দেখি না। সরকারের উচিত কুকুর সমাজের জন্য কুকরিক পায়খানা স্থাপন করা। নাম হতে পারে ”কুকুরিও শৌচালয়”। আইডিয়াটা মন্দ না। কি বলো?
— ঠিক বলেছেন হিমু ভাই। এই ব্যাপারে আমি একমত। এই ব্যাপারটা নিয়ে কুকুরদের তিন দিনের একটা সমাবেশ করা উচিত। যার শ্লোগান হবে
“বাঁচার মত বাঁচতে চাই. . যথাযথ হাগতে চাই!”
— বাহ। তোমার আইডিয়াটাও ভালো। এই ব্যাপারটা কুকুদের জানানো উচিত।
— হাঁটতে হাঁটতে তো অনেক দূর এসে পড়লাম হিমু ভাই। আপনাকে একটা শেষ প্রশ্ন করতে চাই। করি?
— তোমার আইডিয়া আমার ভালো লেগেছে। নির্দ্বিধায় করো।
— রূপা কে নিয়ে আপনার বক্তব্য কি? আপনি কি উনাকে ভালোবাসেন?
— হিমুদের ভালোবাসতে নেই, তুমি জানো না? হিমুরা কখনও কোন তরুণীর প্রেমে জড়ায় না। হিমু আইনে এটা ঘোরতর অন্যায়।
তুমি আজ যাও। আমিও যাই।
আমার একটা ফোনকল করতে হবে।

  ණ รเทนร
Share:

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

কোরবানির ঈদ রস ২০৩০



সাল- 2030
“কোরবানির ঈদ”
ভিডিও কনফারেন্সে গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে “জিসান”

– বেবি জানো, আমাদের গরু কেনা শেষ!
– ও রিয়েলি! কত নিলো ডার্লিং?
– থ্রি ল্যাখ। ইউ নো.,আমার পাপা কমদামি গরু একদম লাইক করে না। তোমরা কিনছো বেবি?
– না। ড্যাড খুব বিজি থাকে। তাই আমাকে কিনতে বলছে। বাট্ হাউ আই সাপোস টু ডু দ্যাট টাইপ অফ শিট্!! ইউ নো ডার্লিং,, আমি জীবনেও কাউ মার্কেটে যাই নাই! ইভেন গরুর প্রাইসও আমি জানি না।
– ওউ. . .ডোন্টবি আপসেট বেবি। তোমার ড্যাড কোথায় গেছেন?
– মারসে (মঙ্গল গ্রহে)। মি.প্রেসিডেন্ট ড্যাডকে কল করছিলেন। তাই ইমারজেন্সি ফ্লাইটেই চলে গেছেন।
– ওউ..! সো স্যাড! ওকে বেবি এখন যাই। লভ ইউ
“অতপর গরু কেনার ব্যাপারে আলাপ করতে মায়ের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলছে জিসান”
– হাই মম, হাউ আর ইউ?
– ওউ হানি… আম ফাইন। বাট একটু বিজি। কিছুক্ষন পর মেকাপরোবো আসবে। ঈদের জন্য প্রিপেয়ার হতে হবে না? কোনো প্রবলেম?
– মঅম. . . আম ইন এ বিগ ট্রাবল ইউ নো!! ড্যাড আমাকে গরু কিনতে বলছে, বাট হাউ মম?? আই কান্ট ডু দ্যাট!
– ওউ হানি.. তোমার যেকোন ফেসবুক ফ্রেন্ডকে নিয়ে চলে যাওনা, কাউ মার্কেটে। আর হ্যা যাওয়ার আগে মনে করে অবশ্যই আমার ক্রেডিট কার্ডটা নিয়ে যেও। বাই দা ওয়ে, মেকাপরোবো চলে এসেছে। বাই হানি। বি সেফ।
“মায়ের সাথে চ্যাট শেষ করে অতঃপর এক ফেবু বন্ধুর সাথে চ্যাট করতে বসলো জিসান”
– হেই. . . ম্যান!
– হেই. . .ডিউড হোয়াটস আপ?
– নট সো খুল…ম্যান! ইউ নো, সামনে কোরবানির ঈদ, সো ড্যাড বিজি থাকায় আমাকে গরু কিনতে বলতেছে। বাট. . !
– সো হোয়াট ডিউড? হোয়াটস দ্যা প্রবলেম?
– আই হেট দিস! আই হেট কাউ মার্কেট সো মাচ!
– কাম অন ডিউড..,! ডোন্ট বি সো রিডিকিউলাস। ইটস এন ইজি থিং। তোর কাউ মার্কেটে যাওয়ার দরকার কি? ওয়েব সাইট থেকেইতো কিনতে পারিস। হোয়াই নট ইউ চেক দোস আউট?
www.gorukinmu.com
অর www.hambahat.com
– রিয়েলি? অহ। তুই আমাকে বাঁচালি. . .ম্যাএন। থ্যাংক্স আ লট। যাইরে।
“পুলকিত চিত্তে ঐসব ওয়েব সাইটে লগ ইন করলো জিসান। অতঃপর গরু বিক্রেতার সাথে জিসানের ভিডিও কথোপকথন”
– থ্যাংকুউ ফর লগিন স্যার। আপনি কি টাইপের গরু চাচ্ছেন?
– উমমম..। আপনাদের এখানে কি কি টাইপের গরু আছে? ক্যান আই সি?
– অফকোর্স স্যার। আপনার কোন মডেলের গরু চাই? আমাদের এখানে সব এক্সক্লুসিভ গরু আছে স্যার। Rongpurian Black AJ 51 থেকে শুরু করে Noakhaliyan Gray 86। এছাড়াও কিছু ফরেন গরু আছে স্যার। যেমন ধরুন INDI HAMBA 42/ PAKU 720/ Australio gutas II.. ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে এবার একটা নতুন গরু এসেছে স্যার। একেবারে ব্র্যান্ড নিউ- Mericana Gobra IV. কোনটা দেখবেন স্যার?
– আচ্ছা, Mericana Gobra IV তে কি কি ফ্যাসেলিটি আছে?
– রাইট চয়েজ স্যার। এতে আপনি পাচ্ছেন-
*> ডাবল হর্নড। ফোর লেগড।
*> 85 kg মাংস।
*> একদম চকচকে তকতকে ধোয়া গরু।
*> উইথ আউট গোবর।
*> এর চামড়ার দাম থাকবে প্রায় 5500 Rs.।
সাথে পাচ্ছেন দুইটি চাপাতি ও একটি লাঠি ফ্রি। আপনি যদি চান তাহলে তিনজন কসাই ম্যানও আমরা দিতে পারি স্যার।
– ওয়াও! তাহলে ঐটাই দিন প্লিজ। বাই দা ওয়ে প্রাইজ কত পরছে?
– মাত্র থ্রি ল্যাখ থার্টি ফাইভ থাউজেন্ড Rs. স্যার। আমি আপনার মেইলে একটা ফরম্ পাঠিয়ে দিয়েছি, ওটাতে আপনার হোম এড্রেস আর পার্সোনাল নাম্বার টা ফিল আপ করে দিন স্যার। নির্দিষ্ট সময়ে কসাই ম্যান আর গরু আপনার ঠিকানায় পৌছে যাবে।
– ওক্কে। আমি মানি ট্রান্সফার করে দিয়েছি।
– থ্যাংক্স স্যার। ফর এনি হেল্প, প্লিজ কনটাক্ট উইথ আস।
“অতঃপর আনন্দ বদনে গার্লফ্রেন্ডের সাথে আবারও ভিডিও চ্যাটে জিসান”
– হাই ডার্লিং। আমাদের গরু কেনা শেষ। ডু ইউ নো হাউ মাচ ইট ইজ? ইটস্ 3 ল্যাখ 3500 Rs.
– (কিছুটা মন খারাপ করে) অউ রিয়েলি বেবি? আমাদেরটার থেকে 3500 Rs. বেশি? গ্রেইট!!! দেখতে খুব কিউট না?
– অফকোর্স। একেবারে এক্সক্লুসিভ। Mericana gobra VI. মডেলের।
– ওহ!. . .আমার যে কি আনন্দ হচ্ছে না বেবি! তোমাকে কি করে যে বোঝাবো? আমি এখন সবাইকে বলতে পারবো যে আমার জানুদের গরু একেবারে ব্রান্ড নিউ আর কিউটি!! আই লাভ ইউ সো মাচ বেবি. . . উম্মাহ. . . <3


ණ รเทนร
Share:

২৭ জুন ২০১৭

ন্যাচরস্ ইকুয়ালিটি



কি গায়ে পড়ছেন কেন?
– চলন্ত বাসে গায়ে গা তো লাগবেই। আপনার অভিযোগ ড্রাইভারকে বলুন।
– চেঁপে বসুন! একটা মেয়ের সাথে কি রকম আচরণ করতে হয় শেখেন নি নাকি?
– হুমম? জ্বী না। এরকম কোন কোচিং সেন্টার আছে কি? থাকলে ঠিকানাটা দিন। আজই ভর্তি হয়ে যাই।
– উফ্ফ। ডিসগাস্টিং! ম্যানারলেস কোথাকার।
– (নিশ্চুপ)
– আমি বলে ছেড়ে দিয়েছি।নেক্সট টাইম আর কোন মেয়ের সাথে এরকম করবেন না। মাইন্ড ইট।
– (নিশ্চুপ)
– একি চুপ করে আছেন কেন? কথা বলুন!
– কি বলবো?
– আমার মাথা বলবেন। আপনি সাঁদা শার্ট পড়েছেন কেন? আপনাকে বয়স্ক বয়স্ক লাগছে।
– সামনে যেটা পেয়েছি সেটা পড়েই চলে এসেছি। খেয়াল করিনি তাই,,
– কেন? খেয়াল থাকে কোথায়? রাস্তার মেয়েদের দিকে?
– (নিশ্চুপ)
– আপনি যাবেন কোথায়?
– ঠিক নেই। বলতে পারছি না।
– আপনি এরকম কেন? একটা মেয়ের সাথে কথা বলতে গেলে যে মধুমাখা কথা বলতে হয় জানেন না? নাকি আপনার মধ্যে রস বলে কিছু নেই?
– জ্বী? আসলে স্কুল জীবন থেকেই রসায়ন সাবজেক্টটার প্রতি আমার অনীহা কাজ করে।
– উফ্ফ! আপনার সাথে কথা বলাই উচিত হয় নি আমার। আপনি একটা অসামাজিক ব্যাক্তি।
– (নিশ্চুপ)
– আপনি আমার পাশ থেকে উঠে বসুন। না থাক, আমিই উঠছি। যত্তসব!
হঠাত্‍ করেই ড্রাইভার ব্রেক কষলেন। প্রায় পড়তে পড়তে একটা সিট ধরে নিজেকে সামলে আবার আগের সিটেই বসে পড়তে হলো নিহিতা কে,
– উফ্ফ! এই ড্রাইভারটাও একটা স্টুপিড। মনে হচ্ছে যেন মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।
– (নিশ্চুপ)
– আরেকটু হলেইতো আমি পড়ে যচ্ছিলাম। আপনি ধরলেন না কেন? একটা মেয়ে বিপদে পড়লে যে তাকে সাহায্য করতে হয় জানেন না?
– জ্বী?? আপনার গায়ে গা লাগার জন্যে একটু আগেইতো আমাকে ধমকালেন। ম্যানারলেস বল্লেন। আর এখন যদি ধরতাম তাহলে তো মনে হয় আমাকে ইভটিজার বলে জেলে দিতেন।
– উফ্ফ। হৈছে হৈছে। বুঝলাম তুমি অনেক নাটক করতে পারো। এক বছর ধরে তোমার নাটক দেখে আসছি। এখন থামো। একটু ভালো করে কথা বলোতো।
– কি বলবো?
– আজব! একটা মেয়েকে কিভাবে ইমপ্রেস করতে হয় তাও জানোনা নাকি? এমন এমন কথা বলবা যা শুনে আমি মুগ্ধ হয়ে যাবো।
– (নিশ্চুপ)
– কি? আজও চুপ করে থাকবা? তোমার বন্ধুদের কাছে নাকি আমাকে নিয়ে সারাদিন ঘ্যান ঘ্যান করো? ওদের নাকি বলো যে তুমি সারাদিন আমাকে নিয়েই ভাবো। তো এখন চুপ কেন? এক বছর ধরে তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি। ইডিয়ট এটাও জানো না যে প্রেমের অফার ছেলেরা আগে দেয়, মেয়েরা না।
– নিহিতা। আরেকটু পরেই আমার স্টপেজ আসবে। আমি নেমে যাবো। একটু চাপুন।
– তুমি আমার সাথে এরকম করতেছো কেন শ্রাবণ? আমি কি কোন অন্যায় করছি? তোমাকে কি খুব কষ্ট দিয়ে ফেলছি? নাকি খুব বেশিই অধিকার ফলিয়ে যাচ্ছি তোমার উপর। হ্যাঁ, মনে হয় সেটাই করে ফেলছি আমি। আচ্ছা আমারই ভুল হৈছে। মাফ করে দিও। আমিই নেমে যাচ্ছি। আর জীবনেও তোমার সামনে আসবো না। এ মুখ দেখাবোনা।
কনড্রাক্টরকে বাস থামাতে বলে, চোখের কোণে একফোঁটা কান্না নিয়ে বাস থেকে নেমে গেল নিহিতা। পিছু ডাকলো না শ্রাবণ। কেন যেন শক্তি পাচ্ছে না ডাকার। ওর মত একটা ভ্যাগাবন্ডের জীবনে নিহিতার মত একটা মেয়ে বেমানান ব্যাপার। বাস থেকে নেমে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো নিহিতা। বাসটা তার পাশ দিয়েই চলে যাচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পরই একটা ইউটার্ন। বাসটা যখনই ইউটার্ন নিতে যাবে ঠিক তখনই বিপরীত পাশ থেকে আগত আরেকটি বাসের আকষ্মিক সংঘর্ষ। বিকট শব্দের কারনে কিছুক্ষনের জন্য হতবাক হয়ে যায় রাস্তার মানুষেরা। দূর্ঘটনাটি তেমন মারাত্মক ছিল না। তবে আকষ্মিক সংঘর্ষের কারণে বাসের দরজা দিয়ে ছিঁটকে পড়ে অপর একটি গাড়ির চাকার তলায় পৃষ্ট হয় একজন।একটু পিছেই হাঁটছিল নিহিতা। দূর্ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে ছিল কিছুক্ষন। আকস্মিকতা কাটতেই মনে পড়ল, আরে ঐ বাসে তো শ্রাবণও বসা ছিল। হাতে থাকা বইগুলো পড়ে যায় নিহিতার। কিছু না ভেবেই দৌড় দেয় দূঘর্টনার জায়গায়। গিয়ে দেখতে পায় অনেক মানুষ জমে আছে সেখানে। রাস্তায় পড়ে আছে একটা রক্তাক্ত দেহ। মৃতদেহটির পরনে সাঁদা শার্ট যা এখন রক্তে লাল হয়ে আছে। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না নিহিতা। এটা কি শ্রাবণ? না তা কি করে হয়? শ্রাবণ এভাবে কিছু না বলে চলে যেতে পারে না। নিহিতার বিশ্বাস ছিল শ্রাবণ একদিন হলেও তার কাছে আসবে। হিসেবটা মেলাতে পারছে না নিহিতা। দাড়িয়ে থাকার শক্তিটুকুও পাচ্ছে না। হঠাত্‍ করেই নিজের বাম কাঁধে একটা হাতের স্পর্শ অনুভব করে নিহিতা। হাতটা শ্রাবণের। বিদ্ধস্ত অবস্থায় দিড়িয়ে আছে শ্রাবণ। আবারও হতবাক হওয়ার পালা নিহিতার। শ্রাবণ এখানে তাহলে মৃতদেহটি কার? পরক্ষণেই মনে পড়ে নিহিতার, আরে হ্যা, শ্রাবণতো সামনের সিটে ছিল না। বাসের মাঝামাঝি বসা ছিল ওরা। তাহলে ঐ লাশটা আরেকজনের? আর কিছু ভাবতে পারছে না নিহিতা। ভাবতে চায়ও না সে। নিজের মনের অজান্তেই জড়িয়ে ধরে শ্রাবণকে। শ্রাবণের সাঁদা শার্টটি রক্তে ভেজা ছিল না, তবে এখন ভিজছে, নিহিতার চোখের পানিতে। শ্রাবণ কিছু বলে না। সেও জড়িয়ে ধরে নিহিতাকে। কিরকম যেন একটা শক্তি অনুভব করছে শ্রাবণ। নিজেকে এখন একজন দায়িত্ববান পুরুষ বলে মনে হচ্ছে তার। আরও শক্তিশালী বাহুবন্ধনে জড়িয়ে নিহিতাকে বুকের উপর চেপে ধরে শ্রাবণ। কেমন যেন মনে হতে থাকে তার। মনে হচ্ছে যেন, যত যাই আসুক এ বাহুবন্ধন এখন আর ঢিল করা যাবে না। আর চুপ থাকা যাচ্ছে না। এবার শ্রাবণের পালা। শ্রাবণ একনাগারে বলে যেতে থাকলো,,
– নিহিতা, প্রথম যখন তোমাকে ক্যাম্পাসে দেখি ঠিক তখন থেকেই কেমন যেন বদলে গেল আমার মন।সারাক্ষণ তোমাকে নিয়েই ভাবতাম। কিন্তু সাহস হয়নি তোমাকে বলার। তুমিতো জানোই যে আমি একটা ইরেসপন্সিবল ভ্যাগাবন্ড ছেলে। কি করে তোমাকে বলতাম যে, তোমাকে আমি কতটা ভালোবাসি। তবে আজ আর আমি চুপ থাকবো না নিহিতা। সৃষ্টিকর্তা আজ হয়তো এই পরিবেশের সৃষ্টি করেছেন,আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন তোমাকে একটা কথাই বলার জন্য যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি নিহিতা। অনেক অনেক।
নিহিতার কান্নার রেশ মুছে যায়নি এখনও। কান্নারত অবস্থাতেই মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি জানায় সে।
***
“প্রকৃতি বড়ই অদ্ভুত। যেখানে জীবনের সমাপ্তি ঘটে, সেখান থেকেই নতুন একটি জীবনের সূচনা করাই তার কাজ। ন্যাচার অলওয়েজ প্রেফারস ইকুয়ালিটি”

ණะ รเทนร
Share: